Sunday, 25 September 2016

যুদ্ধাবস্থায় ভারত পাকিস্তান: বাংলাদেশের কী করা উচিত



দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী দুই প্রতিদ্বন্দ্বি ভারত পাকিস্তানের আঞ্চলিক ও জাতিগত দিক থেকে সবচাইতে নিকটতম প্রতিবেশী দেশ হলো বাংলাদেশ। ’৪৭ পূর্ববর্তী ব্রিটিশ ভারতে পাকিস্তান বাংলাদেশ বর্তমান ভারতের সাথে অঙ্গরাজ্যের মর্যাদায় যুক্ত ছিলো। পরবর্তীতে রাজনৈতিক বিভক্তির কারণে নতুন ৩টি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়। জন্মলগ্ন থেকেই ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বি। জাতীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ভারত পাকিস্তানের সর্বস্তরের জনগণও মানসিকভাবে পরষ্পরের প্রতি হিংসাত্মক হয়ে ওঠছে। যদিও ভারত নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ বলে দাবি করে, তবুও আমার মনে হয় এই রেষারেষি কোনও দেশের জন্যেই মঙ্গলজনক নয়।
ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধংদেহী অবস্থানে বাংলাদেশের উচিৎ সমঝোতার আয়োজন করা। এর আগেও দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনের উদ্যোক্তা হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ও যতœবান হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছে। দূরবিশ্বের নানান অঞ্চলের যুদ্ধবিধ্বস্ত, দুর্যোগপ্রবণ দেশে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে সেনা প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের আন্তর্জাতিক সমাজে অন্যতম শান্তিপ্রিয়, যুদ্ধবিরোধী, জোটনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আমার প্রত্যাশা এটাই যে, দোষগুণ আপাতত পিছনে রেখে ভ্রাতৃপ্রতি ভারতীয় ও পাকিস্তানি জাতির দুঃসময়ে তাদের শান্তির পথে আহ্বান জানানো। নিজেদের উন্নত বিশ্বের প্রতিদ্বন্দ্বি ভেবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলা...  

Tuesday, 20 September 2016

নিশ্চয়ই সৎকর্মীরা কলম সৈনিকদের ভয় পায় না।

হে মুখোশধারী ভদ্র মহোদয়গণ,
তোমরা নিজেরাও জানো যে, আয়না নিজে কারো চেহারা তৈরী করে দেখায় না। আয়নার সামনে যে চেহারা নিয়ে দাঁড়াবে তা-ই আয়নায় ভেসে ওঠবে। আমরাও কলমের কালি ঝরিয়ে তোমাদের এমন কিছু বৃত্তান্ত লিখে ফেলতে পারি না যা তোমাদের নয়। তোমরা সোসাইটিতে ঘটন-অঘটন যা কিছু ঘটাচ্ছো আমরা তা-ই লিখছি।
কাজেই হে ভদ্র সম্প্রদায়,
তোমরা আমাদের ভয় পেয়ো না এবং কোনও অঘটন ঘটিয়ো না, আমরাও তোমাদের নিয়ে তোমাদের ভাষায় কুৎসা রটনোর সুযোগটা পাবো না। তোমরা মন ভরে সৎকর্ম করো। নিশ্চয়ই সৎকর্মীরা কলম সৈনিকদের ভয় পায় না।  

Thursday, 15 September 2016

ওকালতি পেশায় আইনের সদ্ব্যবহার








মনে করুন কোনও ব্যক্তি অপর ব্যক্তির আক্রমনে নিহত কিংবা গুরুতর আহত হলো। এও মনে করুন যে, নিহত বা আহত হবার ব্যাপারটি দুর্ঘটনা নয়। দুর্ঘটনা না হওয়ার কারণে নিহত বা আহত ব্যক্তি রাষ্ট্রের কাছে বিচারপ্রার্থী আর খুনী বা জখমকারী ব্যক্তি রাষ্ট্রের কাছে দোষী এবং দ-প্রাপ্য। ফলত আদালতের দারস্থ হলো নিহত বা আহত ব্যক্তির পক্ষ। আদালতের মধ্যস্থতায় বিচারকার্য পরিচালিত হবে। স্বভাবতই মামলার বাদীপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত কিংবা বাদীপক্ষ নিযুক্ত উকিল দাঁড়াবে অপরাধীকে শাস্তি দিয়ে ভিক্টিমকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দিতে।
কিন্ত আমার খটকা লেগে যায় তখনি যখন দেখতে পাই খুনী বা জখমকারী সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে বিচারকার্য চলার পূর্বেই চিহ্নিত হয়, এমনকি লোকসমাজে জানাজানিও হয়ে যায় যে, অমুক তো অমুককে খুন করেছে কিংবা অমুক তো অমুকের  মাথা ফাটিয়েছে বা বুকে ছুরি মেরেছে তবুও খুনীর পক্ষে কেনো উকিল দাঁড়ায়? বিবাদীপক্ষের উকিল কি অপরাধীকে না জেনেই মামলায় ওকালতনামা প্রাপ্ত হন? নাকি জেনেশুনেও সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানাবার জন্য নৈতিকতা এবং ওকালতি পেশার পবিত্র ধর্মকে, মহান দায়িত্ব-কর্তব্যকে বিসর্জন দিয়ে আইনের ফাঁকফোকরের সদ্ব্যবহার করেন? আইনের মতো পবিত্র জিনিসটা যে টাকা-পয়সার সামনে কিছুই না, তাই এ সমস্ত উকিলদের কার্যকলাপ না দেখলে বুঝবেন না আপনি!

Sunday, 11 September 2016

টাম্পাকোর আগুনে দগ্ধ ঈদ


বড়লোকেদের (?) কলে-কারখানায় কাজ করা গরীবের শক্ত হাতগুলো ক্রমশই অবশ হয়ে যাচ্ছে। সত্যি বলতে অবশ হয়ে যাচ্ছে না, ছলে কৌশলে অবশ করে দেয়া হচ্ছে। নইলে কেন বারেবারে নিরীহ অসহায় শ্রমিকদের উপর এই পৈশাচিক বর্বরতা? নৃশংসতা? দেখার কি কেউই নেই?
টাম্পাকোতে নিহতদের কি ঈদ ছিল না? ঈদের আগেই কেন তাদের কারখানায় আগুনে পোড়ে মরতে হলো? এর আগেওকি অন্য কারখানায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেনি? ঘটে থাকলে পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কেন আমরা দূর্ঘটনা এড়াতে পারি না? আসলে দায়সারা গোছের লোকেরা বসে আছে বিরাট বিরাট দ্বায়িত্ব নিয়ে! এরাই যত অনিষ্টের মূলে।
টাম্পাকোর আগুনে দগ্ধ ঈদ ট্র্যাজেডির খলনায়ক এরাই।